নিজস্ব প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে আত্মশুদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা’ শীর্ষক একটি তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও ধর্মের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও উভয়ই মানুষের জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে প্রকৃত মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জনে তারা আত্মশুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিক চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে ‘ফানাফিল্লাহ’র দরবার’-এর আয়োজনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "তাসাউফ ইসলামি আধ্যাত্মিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিজ্ঞান মানুষকে কার্যকারণভিত্তিক জ্ঞান দিলেও মানুষের জানার জগৎ কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আত্মিক উপলব্ধি ও প্রজ্ঞার অনুসন্ধানের মাধ্যমেই মানুষ তার অন্তর্গত প্রকৃত প্রশান্তি অর্জন করতে পারে।"
উপাচার্য আরও যোগ করেন, "মানুষের মন যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হলেও হৃদয় পরিচালিত হয় ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। তাসাউফ মানুষকে মূলত আত্মসমর্পণ ও বিনয়ের শিক্ষা দেয়।" এ সময় তিনি গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের ‘প্লেজার’ (ভোগের সুখ) ও ‘হ্যাপিনেস’-এর (প্রকৃত সুখ) পার্থক্যের উদাহরণ টেনে বলেন, ভোগের মাঝে নয়, বরং ত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সুখ অর্জিত হয়।
সেমিনারের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যামফোর্ডের রহমানতুল্লিল আলামিন জামে মসজিদের খতিব এবং নর্থ আমেরিকান মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট শায়খ মুহাম্মদ সাইফুল আজম বাবর আজহারী।
ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয় সাধন করে তিনি বলেন, "বাংলা সাহিত্য, দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান কিংবা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান—সবই সামগ্রিক জ্ঞানের অংশ। ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে মৌলিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই; বরং উভয়ের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। বিজ্ঞান দৃশ্যমান ও বস্তুগত জগতের ব্যাখ্যা দেয়, আর ধর্ম মানুষের অস্তিত্ব, নৈতিকতা ও পরকালসহ বিভিন্ন অধিবিদ্যাগত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেয়।"
বর্তমান বিশ্বের মানসিক সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধান আলোচক বলেন, "আধুনিক বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করলেও মানুষের অন্তরের প্রশান্তি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুগত কোনো উন্নতিই আত্মার অশান্তি দূর করতে পারে না। তাই জীবনে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনতে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আত্মশুদ্ধি এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার কোনো বিকল্প নেই।"
উক্ত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসু ব্যক্তিরা অংশ নেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি সেমিনারটিকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে আত্মশুদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা’ শীর্ষক একটি তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও ধর্মের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও উভয়ই মানুষের জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে প্রকৃত মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জনে তারা আত্মশুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিক চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে ‘ফানাফিল্লাহ’র দরবার’-এর আয়োজনে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "তাসাউফ ইসলামি আধ্যাত্মিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিজ্ঞান মানুষকে কার্যকারণভিত্তিক জ্ঞান দিলেও মানুষের জানার জগৎ কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আত্মিক উপলব্ধি ও প্রজ্ঞার অনুসন্ধানের মাধ্যমেই মানুষ তার অন্তর্গত প্রকৃত প্রশান্তি অর্জন করতে পারে।"
উপাচার্য আরও যোগ করেন, "মানুষের মন যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হলেও হৃদয় পরিচালিত হয় ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। তাসাউফ মানুষকে মূলত আত্মসমর্পণ ও বিনয়ের শিক্ষা দেয়।" এ সময় তিনি গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের ‘প্লেজার’ (ভোগের সুখ) ও ‘হ্যাপিনেস’-এর (প্রকৃত সুখ) পার্থক্যের উদাহরণ টেনে বলেন, ভোগের মাঝে নয়, বরং ত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সুখ অর্জিত হয়।
সেমিনারের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যামফোর্ডের রহমানতুল্লিল আলামিন জামে মসজিদের খতিব এবং নর্থ আমেরিকান মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট শায়খ মুহাম্মদ সাইফুল আজম বাবর আজহারী।
ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয় সাধন করে তিনি বলেন, "বাংলা সাহিত্য, দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান কিংবা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান—সবই সামগ্রিক জ্ঞানের অংশ। ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে মৌলিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই; বরং উভয়ের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। বিজ্ঞান দৃশ্যমান ও বস্তুগত জগতের ব্যাখ্যা দেয়, আর ধর্ম মানুষের অস্তিত্ব, নৈতিকতা ও পরকালসহ বিভিন্ন অধিবিদ্যাগত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেয়।"
বর্তমান বিশ্বের মানসিক সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধান আলোচক বলেন, "আধুনিক বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করলেও মানুষের অন্তরের প্রশান্তি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুগত কোনো উন্নতিই আত্মার অশান্তি দূর করতে পারে না। তাই জীবনে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনতে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আত্মশুদ্ধি এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার কোনো বিকল্প নেই।"
উক্ত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসু ব্যক্তিরা অংশ নেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি সেমিনারটিকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে।

আপনার মতামত লিখুন